বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে টালবাহানার অভিযোগ তুলে আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল, বিএনপি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে দলটি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ বুধবার এক বক্তব্যে বলেন, “সরকারের ভুল শুধরে সঠিক রাস্তায় আনতে এবং রাজনৈতিক সরকারের পথ পরিষ্কার করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিএনপি।’’ তিনি আরও জানান, দলের এই উদ্যোগকে আন্দোলন বললেও ভুল হবে না।
এর আগে গত ডিসেম্বরেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেছিলেন, “৫ অগস্ট আপনারা যেমন রাস্তায় নেমেছিলেন, আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে হবে। ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার এবং ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলনে নামতে হবে।”
বিএনপির আন্দোলনের এই নতুন হুঁশিয়ারি এসেছে এমন এক সময়, যখন দলের প্রধান খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য ব্রিটেনে অবস্থান করছেন এবং তাঁর পুত্র তারেক রহমানও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অগস্ট মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবসে ইউনূস তাঁর বক্তৃতায় সম্ভাব্য নির্বাচনের সময়সীমা উল্লেখ করেছিলেন, যা নিয়ে বিএনপি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তিনি বলেছিলেন, “২০২৫ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন করা যেতে পারে।” পরদিন তাঁর প্রেস সচিব ব্যাখ্যা দেন, “২০২৬ সালের জুনের পরে নির্বাচন হতে পারে।”
এর পরেই বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ও মহাসচিব ফখরুল অভিযোগ তোলেন যে, “নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।” এখন দেখার বিষয়, বিএনপি তাদের ঘোষিত আন্দোলনে কতটা সফল হয়।
