জম্মু ও কাশ্মীরে ছয় বছর পর নির্বাচিত সরকার গঠিত হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে মত প্রকাশ করেছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা। তার দাবি, ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করে উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেন। ওমরের ভাষায়, “কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, “শব-এ-বরাতের দিন ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা স্পষ্টতই মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।” তিনি সতর্ক করে দেন, “ভয় দেখিয়ে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত রাখা গেলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য।”
একসময় যখন জম্মু ও কাশ্মীর একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্য ছিল, তখন প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রাজ্য সরকারের হাতে ছিল। কিন্তু ৩৭০ ধারা বাতিলের পর, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হওয়ায় পুলিশ ও আমলাদের ওপর নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষীণ হয়ে গেছে। এখন সব সিদ্ধান্তের ক্ষমতা লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী বলে মনে করেন ওমর।
তার মতে, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানাতে হলে কাশ্মীরের নির্বাচিত সরকারকে যথাযথ ক্ষমতা দিতে হবে। অন্যথায়, শুধুমাত্র প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
Leave a comment
Leave a comment
