
আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিধানসভাভিত্তিক ‘ইলেকশন কমিটি’ গঠন শুরু করেছে শাসকদল। বিশেষ নজর কেড়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব বলয়ে থাকা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা, যেখানে একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে বড় আকারের কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে এ কি শুধুই ভোট ব্যবস্থাপনার অংশ, নাকি দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণের কৌশল?
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি কমিটিতে প্রার্থীর পাশাপাশি চেয়ারম্যান, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সহ-আহ্বায়কের মতো একাধিক পদে স্থানীয় নেতাদের রাখা হয়েছে। পাঁশকুড়া পূর্বে ৪৫ জন, ময়নায় ৩৫ জন, নন্দকুমারে ৩৬ জন, মহিষাদলে ৫৬ জন এবং হলদিয়ায় ৫৯ জন নেতাকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নেতৃত্বকে একসঙ্গে জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরেই জল্পনা তুঙ্গে।
শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, পুরুলিয়া, মালদহ, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনাতেও একই ধারা বজায় রেখেছে তৃণমূল। কোথাও ২০-৩০ জন, আবার কোথাও ১০০-রও বেশি সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে রঘুনাথপুরে ১২৬ জনের কমিটি রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। হাওড়ার শিবপুরে প্রার্থী বদলের পর ২৮ জনের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে নতুন প্রার্থীকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
এই ধরনের বৃহৎ কমিটি গঠনের পিছনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সম্ভাবনাকে অনেকেই কারণ হিসেবে দেখছেন। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে অসন্তোষ এবং দলীয় কোন্দল সামাল দিতেই নেতৃত্বকে একসঙ্গে নিয়ে আসার চেষ্টা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ।
দলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, “প্রত্যেকটি বিধানসভায় গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০টি বুথ থাকে। প্রতিটি বুথে অন্তত ১৫ জন করে কর্মী থাকেন। সেই হিসেবে একটি কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মী সক্রিয় থাকেন। তাঁদের সমন্বয় সাধন এবং ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের একাধিক পদক্ষেপ বিশেষ করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে কমিশনের টানাপোড়েনও প্রকাশ্যে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন।
ভোটের আগে সংগঠনকে চাঙ্গা রাখা, অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং মাঠপর্যায়ে শক্তি বৃদ্ধি এই তিন লক্ষ্যেই তৃণমূলের এই ‘মেগা কমিটি’ কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
