ফুটপাতে বাসন মেজে মাধ্যমিকে সফল প্রিয়াঙ্কা-সোনিয়াকে কুর্নিশ
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
সাকিন, কলকাতার ফুটপাত। কাজ, ফুটপাতে হোটেলগুলোতে বাসন মাজা। ফুটপাতই ওদের জীবন-মরণ। ইটের বালিশ মাথায় দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদ সত্যি যেন ওদের কাছে ঝলসানো রুটি। তবুও কংক্রিটের ফুটপাতে শুয়ে একবুক স্বপ্ন নিয়ে গতকাল রাতেও বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছে ওরা। অজ সকালের সূর্য জানিয়ে দিয়েছে স্বপ্নপূরণ হয়েছে ওদের। মাধ্যমিক ২০২৫ এর সফল পরীক্ষার্থীদের তালিকায় নাম রয়েছে প্রিয়াঙ্কা প্রামানিক ও সোনিয়া ঘোষের। ফুটপাতের বাসিন্দা হয়ে পড়াশোনা করেই মাধ্যমিক পাশ করল প্রিয়াঙ্কা-সোনিয়া।
তবে বড্ড কঠিন ছিল এই জার্নিটা। দক্ষিণ কলকাতার সাদার্ন এভিনিউ এর বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা কালীধন ইনস্টিটিউশন এর ছাত্রী এবং সোনিয়া টালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলের ছাত্রী। দুজনেরই মাথার উপর বাবা নেই । সংসারের অনটন এবং রোজগারের বোঝা ঘাড়ে চাপিয়ে নিয়ে বছর দুয়েক আগে দুজনেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ফুটপাতেরই বিভিন্ন হোটেলে বাসন মাজার কাজ করে যেটুকু উপার্জন হয় তা দিয়েই সংসার চালায় দুজনে। কিন্তু বুক ভরা স্বপ্ন ছেড়ে দেয়নি ওরা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি এর স্বপ্ন দেখায় ওদের। পড়াশোনা করার জন্য ওদের আকুতি দেখে এগিয়ে আসে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগেই ফের পড়াশোনা শুরু হয় প্রিয়াঙ্কা-সোনিয়ার। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার স্কুলে পড়াশোনা করত ওরা। সংসার তো চালাতে হবে, তাই পড়াশোনা ফাঁকেই বাসন মাজার কাজও চালু ছিল। অদম্য ইচ্ছা শক্তি এবং বুকভরা স্বপ্নকে অবলম্বন করে চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও অবশেষে মিলেছে সাফল্য। মাধ্যমিকের সফল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে ফুটপাতের বাসিন্দা
প্রিয়াঙ্কা-সোনিয়া। চরম দারিদ্র ও প্রতিকূলতার জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়ে স্বপ্নপূরণের লড়াইতে সফল হওয়া প্রিয়াঙ্কা ও সোনিযাকে আমরাও কুর্নিশ জানাই।
