করোনা নিয়ে নতুন করে অশনি সংকেত। দেশে ধীরে ধীরে বাড়ছে সংক্রমণ। ইতিমধ্যেই কেরল, মুম্বই, দিল্লি, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুতে নতুন করে করোনা আক্রান্তের খবর মিলেছে। এ বার সংক্রমণের হদিশ মিলল বাংলাতেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের এক তরুণী ও এক কিশোরের শরীরে কোভিড ১৯ ভাইরাস ধরা পড়েছে। এর পরেই জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতা-সহ আশপাশের জেলাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
দিল্লিতে তিন বছর পর ২৩টি নতুন করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নয়ডা ও গাজিয়াবাদেও নতুন রোগীর সন্ধান মিলেছে। নয়ডায় ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও গাজিয়াবাদে চারজন আক্রান্ত হয়েছেন। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঙ্কজ সিং জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ সংক্রমণটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই এবং খুবই মৃদু প্রকৃতির।
কেরলে মে মাসে এখনও পর্যন্ত ২৭৩ জন সংক্রমিত হয়েছেন, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালেই মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং যাঁদের কাশি-সর্দির উপসর্গ আছে, তাঁদের মুখ ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের মুম্বই শহরে মে মাসে এখনও পর্যন্ত ৯৫ জনের করোনা সংক্রমণ হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয়, সেখানে মাত্র ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কর্ণাটকে এখন পর্যন্ত ৩৫টি সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যার মধ্যে একজন ৯ মাসের শিশুও রয়েছে। যাঁদের শ্বাসকষ্টজনিত উপসর্গ রয়েছে, তাঁদের করোনা পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলার তথ্য অনুযায়ী, রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের এক কিশোর ও এক তরুণীর শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। দু’জনই বর্তমানে বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন এবং স্থিতিশীল। জেলা স্বাস্থ্য দফতর, ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কলকাতার হাসপাতালগুলিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, “আপাতত আতঙ্কের কিছু নেই। তবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে প্রস্তুতি রয়েছে। সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছি আমরা।”
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধি হতে পারে ওমিক্রনের সাব-ভ্যারিয়েন্ট জেএন.ওয়ান-এর কারণে। যদিও এই ভ্যারিয়েন্টটিকে এখনও পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ভ্যারিয়েন্ট অফ কনসার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। উপসর্গগুলিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃদু জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি ইত্যাদি। আক্রান্তরা সাধারণত ৩-৪ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠছেন।
হাসপাতালগুলিকে পর্যাপ্ত শয্যা, অক্সিজেন, টেস্ট কিট ও ভ্যাকসিন মজুত রাখতে বলা হয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা সদৃশ অসুস্থতা ও তীব্র শ্বাসজনিত অসুস্থতা সংক্রান্ত তথ্য প্রতিদিন কেন্দ্রের ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ডেটা প্ল্যাটফর্মে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৯ সালে গোটা দেশ ও বিশ্বের উপর আছড়ে পড়েছিল করোনা। বহু মানুষের প্রাণ কেড়েছিল সেই অতিমারি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সংক্রমণের এই নতুন ঢেউকে হালকা ভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাই মাস্ক, স্যানিটাইজার, সামাজিক দূরত্বের মতো অভ্যাসকে ফের গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে। কলকাতাবাসী-সহ রাজ্যবাসীর প্রতি আবেদন, উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে টেস্ট করান ও নিজেকে আলাদা রাখুন। সতর্ক থাকলেই সুরক্ষা সম্ভব।
