
মুর্শিদাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যাওয়ার পথে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের কনভয়ে ঘটে গেল সড়ক দুর্ঘটনা। বুধবার বহরমপুর থানার বলরামপুর এলাকায় কনভয়ের একটি গাড়ির সঙ্গে একটি ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাক্টরের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কনভয়ের একটি গাড়িতেও আঘাত লাগে।
ঘটনার সময় ওই গাড়িতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত শান্তনু ঠাকুর ওই গাড়িতে ছিলেন না, ফলে তিনি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ট্রাক্টরের যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা চালকের অসতর্কতার কারণে এই সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে। ট্রাক্টর চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। কনভয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলও। নির্বাচনের মুখে একজন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর কনভয়ে এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যাপ্ততা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তিনটি জনসভা রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়—পূর্ব বর্ধমানের কালনা, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি এবং মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শান্তনু ঠাকুরের কনভয় মুর্শিদাবাদ দিয়ে যাচ্ছিল।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্যে রাজনৈতিক নেতাদের কনভয় দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে। কিছুদিন আগেই প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর কনভয়ের একটি গাড়িতে ট্রাকের ধাক্কায় একাধিক নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন রিপোর্টও তলব করেছিল।
নির্বাচনের আবহে একের পর এক রাজনৈতিক কনভয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা প্রশাসনের জন্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিরোধী ও শাসক দুই শিবিরই বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা অবলম্বনের দাবি তুলছে। যদিও এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের আঘাত বা প্রাণহানির খবর নেই, তবে তদন্ত শেষে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
