
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যে ২৮ দফার খসড়া শান্তি প্রস্তাব আনা হয়েছে, সেটি ঘিরে জেনেভায় মার্কিন ও ইউক্রেনের মধ্যে দু’দিনের বৈঠকে বড় অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশ জানিয়েছে, আলোচনার পর একটি পরিমার্জিত শান্তি কাঠামো তৈরি হয়েছে এবং এটি নিয়ে আরও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।
ট্রাম্প ইউক্রেনকে থ্যাংকসগিভিং পর্যন্ত সময় দিয়ে বলেছেন, কিয়েভকে প্রস্তাবে সাড়া দিতে হবে। তবে ইউক্রেনের আপত্তি সবচেয়ে বেশি মূল খসড়ার তিনটি বিষয়ে ভূখণ্ড ছাড়, সেনা কমানো এবং ন্যাটোর বাইরে থাকার শর্ত। কারণ এগুলো তাদের কাছে যুদ্ধের চার বছরের ত্যাগের প্রতি ঘা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে দনবাসের এমন কিছু এলাকা থেকে সেনা সরাতে হবে যেগুলো পুরোপুরি রাশিয়ার দখলে নয়। ওই অঞ্চল হবে নিরস্ত্রীকৃত বাফার জোন, যার ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি পাবে। একইভাবে ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কও রাশিয়ার অংশ হিসেবে গণ্য হবে। তবে খেরসন ও জাপোরিঝিয়া ফ্রন্টলাইন বড় পরিবর্তন ছাড়াই থাকবে।
ইউক্রেন ও ইউরোপীয় অংশীদারদের পাল্টা প্রস্তাব বলছে, যুদ্ধ থামার পরই শুধু সীমান্ত নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তারা চায় যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর মতো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিক এবং রাশিয়ার বরফজমা সম্পদ যুদ্ধ-ক্ষতির ক্ষতিপূরণে ব্যবহার হোক। রাশিয়া চুক্তি মেনে চললে ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাবও রয়েছে এতে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং খসড়া পরিকল্পনায় রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষের আগের পয়েন্টও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইউক্রেন প্রতিনিধি আন্দ্রি ইয়েরমাকও বলেছেন, আলোচনায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
তবে চূড়ান্ত সমাধান এখনো অনিশ্চিত। ভূখণ্ড, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এই তিন প্রশ্নই ভবিষ্যত চুক্তির সবচেয়ে কঠিন বাধা হয়ে রইল।
