
পিলখানায় ২৭ বছরের প্রোমোটার সফিক খানের নৃশংস খুনের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভোররাতে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি সফিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার ভয়ঙ্কর দিক ধরা পড়েছে, যা স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক এবং ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
গোলাবাড়ি থানার পুলিশ এবং হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা গোপন সূত্রের সাহায্যে ধৃত তিনজনকে গ্রেফতার করেছেন। ধৃতরা হলেন ৩৬ বছর বয়সি মহম্মদ বিলাল (কলকাতার জোড়াসাঁকো), ৩২ বছর বয়সি মহম্মদ ওয়াকিল বা মুন্না এবং দিলদার হোসেন (বউবাজারের বাসিন্দা)। তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহতের সঙ্গে এলাকার দুই দুষ্কৃতীর পূর্বের বিবাদ ছিল। এছাড়া আর্থিক লেনদেন ও চাঁদার দাবির অভিযোগও সামনে এসেছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, “ওকে দীর্ঘদিন ধরে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। টাকা না দেওয়াতেই এই নৃশংস পরিণতি।”
ধৃতরা মূল দুই অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে মূল দুই পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজের জন্য। ইতিমধ্যে হারুন ও রোহিতের কার্যকলাপ সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এবং আগুন জ্বালান। এক সাংবাদিকও খবর সংগ্রহের সময় আক্রান্ত হন, নাকের হাড় ভেঙে যায়। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি যথাযথ ছিল না, যদিও ডেপুটি কমিশনার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার নেতৃত্বে রাফ টিম এলাকায় টহল দিচ্ছিল।
এই খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হাওড়া উত্তরের বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে হারুন খানের ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভোটের আগে এই নৃশংস খুন প্রেক্ষাপটকে আরও সংকটময় করে তুলেছে।
পুলিশ এখনও মূল দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তদন্ত চলমান এবং ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে যাতে অপরাধীদের সঠিক অবস্থান বের করা যায়। স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
এই ঘটনায় হাওড়ার মানুষ আতঙ্কিত হলেও তারা আশা করছেন, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে ন্যায়বিচার হবে।
