যুদ্ধবিরতি হয়ে গিয়েছে , কাগজে-কলমে শান্তি ফিরেছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে। কিন্তু বাস্তব ছবিটা ঠিক উল্টো। জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরের নানা প্রান্তে আজও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর ছোড়া অকেজো গোলা। সেই গোলাগুলি এখন ‘ঘুমন্ত মরণফাঁদ’ হয়ে উঠেছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির মানুষের কাছে।
নানগালি সাহেব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, যুদ্ধবিরতির পরদিনই তারা একটি বিশাল গোলা দেখতে পান একটি মাঠে পড়ে থাকতে। বিস্ফোরণ না হলেও গোলা থেকে আগুন আর ধোঁয়া বেরোতে দেখেছেন অনেকে। আমরা তো ভয়েই রাস্তা দিয়ে যাই না। স্কুল খুলে গেছে, ছোট ছোট বাচ্চারা চলাফেরা করছে, যদি হঠাৎ ফেটে যায়? ভয়ে কাঁপছেন স্থানীয় যুবক রফিক।
তিনি আরও বলেন, আমার পরিবারের ১৩ জন সদস্যকে আমি ওই রাস্তায় না যেতে কড়া নিষেধ করেছি। এমনই এক গোলা কয়েক বছর আগে ফেটে একটি শিশুর দুই হাত উড়িয়ে দিয়েছিল।
পুলিশ ও প্রশাসনকে খবর দিলেও এখনো পর্যন্ত এলাকাটি সুরক্ষিত করা হয়নি বলেই অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, শুধু এই একটি গোলা নয়, আশপাশে আরও একাধিক গোলার খোঁজ মিলেছে, কেউ রান্নাঘরে পেয়েছেন, কেউ আবার খেলার মাঠে।
প্রশাসন ইতিমধ্যে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, কোথাও সন্দেহজনক কিছু দেখলে স্পর্শ না করে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বা সেনাকে জানাতে হবে।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, সেনাবাহিনীর তৎপরতা কেন এত দেরিতে? সীমান্তে যুদ্ধ থেমে গেলেও, মানুষের মনের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। প্রতিটি দিন কাটছে আতঙ্কে, যেন বুকে বাঁধা টাইম বোমা নিয়ে বেঁচে থাকা।
কাশ্মীরের মাটিতে ছড়িয়ে থাকা এই অদৃশ্য শত্রু নিষ্ক্রিয় না হলে, শান্তি কেবলই কাগজে থাকবে, বাস্তবে নয়।
