বিহারে স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন বা এসআইআর পর্বের পর আগামী পয়লা আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। খসড়া ভোটার তালিকায় যদি কারও নাম না থাকে, তাহলে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আরও একমাস সময় পাবেন যোগ্য ভোটাররা। পয়লা আগস্ট থেকে পয়লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খসড়া ভোটার তালিকার উপর ক্লেমস অ্যান্ড অবজেকশন পর্ব চালু থাকবে। এই সময় যেকোনও যোগ্য ভোটার অথবা রাজনৈতিক দলগুলো ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার অথবা নাম বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করে আবেদন জানাতে পারবেন। খসড়া ভোটার তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার অথবা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোনও নথিভুক্ত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না অথবা অন্তর্ভুক্তিও হবে না। যদি প্রয়োজনীয় নথির অভাবে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যায়। তাহলে সংশ্লিষ্ট যোগ্য ভোটারদের সাহায্যের জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবে নির্বাচন কমিশন। সেজন্য ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছাসেবকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে কমিশন। প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকরা ভোটারের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজনীয় নথি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ওই যোগ্য ভোটারকে পাইয়ে দেওয়ার কাজ করবেন। অর্থাৎ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ভোটারের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেই এই স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন। যেহেতু কোনও যোগ্য ভোটার যেন তার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন নির্বাচন কমিশন। তাই ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও এক মাস ভোটাররা তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাবেন এবং প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্যে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশেষত প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষ উপায়ে শারীরিকভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা বাড়তি উদ্যোগ নেবেন বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত মোট ১১টি নথির ভিত্তিতে এই রিভিশন প্রক্রিয়ার কাজ চলছে বিহারের ৩২টি জেলাতেই। মূলত ভুলবশত কোনও ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বা যুক্ত করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই আগামী পয়লা আগস্ট থেকে পয়লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটারদের এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্লেমস অ্যান্ড অবজেকশন পর্ব চলবে বিহারে। পয়লা সেপ্টেম্বরের পর আর কোনও আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলেও জানিয়েছে কমিশন। এক মাস ধরে চলা যাবতীয় ক্লেমস ও অবজেকশন খতিয়ে দেখে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সে ক্ষেত্রে নাম অন্তর্ভুক্তি বা নাম বাদ দিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আগস্ট মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে ভোটারদের। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে বিহারে স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশনের ফলে প্রাথমিকভাবে বা ৫৬ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে। অর্থাৎ বিহারে প্রায় ৭ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের তালিকা থেকে প্রায় ৫৬ লক্ষ ভোটারের নাম দিয়ে আগামী পয়লা আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। কেন এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে, তারও একটি হিসেব দিয়েছে কমিশন। মৃত ভোটার অর্থাৎ যাঁরা মারা গিয়েছেন কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম রয়ে গিয়েছে এই ধরনের ভোটার রয়েছেন প্রায় ২২ লক্ষ, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিহার থেকে ভিন রাজ্যে গিয়ে সেখানে স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন এরকম ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩৬ লক্ষ। তাঁদের নামও বিহারের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সাত লক্ষ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের নাম একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় রয়েছে, সেই সমস্ত ভোটারের নাম ও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। তবে সমস্ত প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনওরকম ভুল ত্রুটি রাখতে চায় না নির্বাচন কমিশন। সে কারণেই গোটা আগস্ট মাস জুড়ে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তি বা বিয়োজনের জন্য ফের সুযোগ দিতে চায় নির্বাচন কমিশন। সেক্ষেত্রে যে ১১টি নথির ভিত্তিতে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বিয়োজন করা যাবে, সেই নথিগুলো পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সাহায্য করতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে, নির্ভুল ও যোগ্য ভোটারদের তালিকা তৈরি করতে চায় নির্বাচন কমিশন।
