ফের দিল্লিতে বাংলা ও বাংলা ভাষা নিয়ে তুলকালাম। দিল্লিতে দ্রুত আট বাংলাদেশের কাছে বাংলা ভাষায় লেখা কিছু চিঠি ও নথিপত্র হিন্দি ও ইংরেজিতে অনুবাদ করার জন্য চাণক্যপুরীর বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে দক্ষিণ দিল্লির লোধি কলোনি থানা। কোনও বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই রাজধানীতে এই আট বাংলাদেশি কীভাবে পৌঁছল, তা নিয়েই তদন্তে লোধি কলোনি থানার পুলিস। তাই “বাংলাদেশি ভাষায় ” লেখা ওই চিঠি বা নথিগুলির হিন্দি অথবা ইংরেজিতে যথাযথ অনুবাদ করাতে চায় দিল্লি পুলিস। আর বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষকে লেখা দক্ষিণ দিল্লির লোধি কলোনি থানার এই চিঠি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্বয়ং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লী পুলিশ লিখিত “বাংলাদেশি ভাষা” শব্দবন্ধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ভারতের বাংলাভাষী মানুষজনের কাছে এই চিঠি অসংবিধানিক জাতীয়তাবাদ বিরোধী এবং অপমানজনক বলে উল্লেখ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। রবীন্দ্র-নজরুল বিবেকানন্দের এই বাংলা ভাষা অথবা দেশের জাতীয় মন্ত্র বন্দেমাতরম এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্রের বাংলা ভাষাকে বাংলা বিদ্বেষী কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে অপমানিত বা অমর্যাদা করছে, তার বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বঙ্গভবনকে দেওয়া চিঠিতে লোধি কলোনি থানার পুলিস জানিয়েছে ধৃত ৮ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রয়োজনীয় ধারা ছাড়াও ১৪ বৈদেশিক আইন এবং ৩৪ আধার আইন রুজু করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আদালতের কাছে যাতে সঠিক তথ্য ও প্রমাণ সহযোগে ধৃতদের পেশ করা যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করা সম্ভব হয়, সেজন্যই ধৃতদের থেকে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু চিঠি ও নথিপত্র, যা বাংলা ভাষায় লেখা রয়েছে ( দিল্লি পুলিশের লেখায় সেটি ‘বাংলাদেশি ভাষা’ ) সেগুলি যথাযথ ভাবে বোঝা প্রয়োজন। আর সে কারণেই বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষের কাছে ওই চিঠি ও নথিপত্রগুলির হিন্দি ও ইংরেজি তর্জমা করার জন্য আবেদন জানিয়েছে দিল্লি পুলিস। আর দিল্লি পুলিসের এ ধরনের চিঠি বা শব্দ বন্ধ ব্যবহারের জন্যই বাংলা ও বাংলা ভাষার অবমাননা ও মর্যাদা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে বাঙালির জাতিসত্তা ও ভাবাবেগকে উসকে দিয়ে কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে চান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
