
ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ তুঙ্গে উঠছে। এরই মধ্যে বড় পদক্ষেপ নিল Trinamool Congress। দলের পক্ষ থেকে রাজ্যের মন্ত্রী Chandrima Bhattacharya কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠিয়েছেন। এই চিঠিতে এখনও পর্যন্ত বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৯ জন প্রার্থীর বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই চিঠিটি তিন পৃষ্ঠার এবং এতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য, এমনকি তাঁদের EPIC নম্বর-সহ আলাদা তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দ্রুত সমস্যার নিষ্পত্তি চেয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা দলের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
জানা যাচ্ছে, বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর, মালদহের মোথাবাড়ি, মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জ, লালগোলা, নওদা, হুগলির চণ্ডীতলা ও উত্তরপাড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার প্রার্থীরা। ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে Bharatiya Janata Party। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার কড়া ভাষায় বলেন, তৃণমূলের কথায় আর মানুষের ভরসা নেই। তাঁর দাবি, গত দেড় দশকে রাজ্যে যে শাসন হয়েছে, তাতে মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, “চিঠি লিখে বা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে কোনও লাভ হবে না, মানুষই শেষ কথা বলবে।”
অন্যদিকে, কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই স্বস্তির খবরও এসেছে। যেমন, কাজল শেখের নাম অবশেষে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা ছিল এবং সেই আস্থা ভবিষ্যতেও থাকবে।
ভোটের আগে প্রার্থী তালিকা ঘিরে এই টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। আদালতের হস্তক্ষেপে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটাই এখন দেখার।
