
দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃতের নাম অরূপ মণ্ডল (৩৭)। তিনি রাজপুর-সোনারপুরের নরেন্দ্রপুর থানার নবগ্রাম এলাকার একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবার ভোররাতে তাঁর ফ্ল্যাট থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ছয় রাউন্ড গুলি, যা এই ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে প্রায় ১টা নাগাদ অরূপের মামা শংকর নস্কর একটি ফোন পান। এক পরিচিত ব্যক্তি তাঁকে ঘটনাটির কথা জানান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ফ্ল্যাটে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ঘরের ভিতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে অরূপের দেহ এবং পাশে একটি বন্দুক পড়ে রয়েছে। এরপরই নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অরূপের বান্ধবী প্রিয়াঙ্কা দাস এবং তাঁর এক বন্ধু রাজুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই মৃত্যুর নেপথ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা থাকতে পারে। ত্রিকোণ প্রেমের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
মৃতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত খুন। অরূপের মামা শংকর নস্কর জানান, “আমার ভাগ্নে বাঁ-হাতি ছিল। কিন্তু মাথার ডানদিকে গুলির চিহ্ন রয়েছে, যা দেখে সন্দেহ হচ্ছে। এই ঘটনা স্বাভাবিক নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রিয়াঙ্কা দাসের আচরণও সন্দেহজনক ছিল।
অন্যদিকে ধৃত রাজুর দাবি, অরূপ মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন এবং তার জন্য প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনই দায়ী। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, অরূপ আত্মহত্যা করার মানুষ নন।
পুরো ঘটনাটি ঘিরে ধোঁয়াশা বাড়ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এটি খুন, আত্মহত্যা, না কি সম্পর্কজনিত জটিলতার ফল তা নির্ধারণের জন্য। এলাকাবাসীর মধ্যেও আতঙ্ক ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে এই রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।
